[Guide] USA তে আন্ডারগ্রাজুয়েট/অনার্স পর্যায়ে আবেদন করার গাইড (বাংলা ভার্সন)

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অনেকের ই সপ্ন কিন্তু কিছু ভুল পদক্ষেপ এর কারণে অনেকের সে সপ্ন কে বাস্তবে রুপান্তর করা হয়ে ওঠে না। শেষ সময় গিয়ে অ্যাপলিকেশন করতে গিয়ে অনেকে উপলব্ধি করে আসলে যেভাবে স্কুল জীবনে প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার ছিলো তার উল্টোটা করে এসেছে সে। এতে প্রচন্ড প্রতিযোগীতার ভিড়ে তার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা আর হয়ে ওঠে না। তাই স্কুল জীবন থেকে কেউ যদি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে চায়, তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা এই আর্টিকেলটি।

যেহেতু এই বিষয়ে অনেক লেখাই অনেক যায়গায় আছে, কিন্তু অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে লেখা আমার দেখা মতে একটিও নেই। তাই এই লেখাটা এমন ভাবে লেখা হবে যাতে তুমি যদি তোমার বাবা/মা কে দেখাতে চাও কিভাবে তোমার প্রিপারেশন নিতে হবে আর তাদের থেকে কি সাপোর্ট লাগবে, সেটা তুমি করতে পারবে।

কথা না বাড়িয়ে আমি মূল পয়েন্টস গুলোয় চলে যাবো। আমি নিজেকে কিছু প্রশ্ন করবো যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এবং সেগুলোর উত্তর দিবো যাতে তোমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে সঠিক উত্তর পাও।


প্রশ্ন ১ঃ কি কি লাগে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আবেদন করতে?

উত্তরঃ

  • অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ
  • অন্তত ৩ টি রিকমেন্ডেশন লেটার (২টি দুই জন শিক্ষকের কাছ থেকে, ১ টি কাউন্সিলর এর কাছ থেকে)
  • SAT/ACT পরীক্ষার স্কোর (যদিও কিছু কিছু ইউনিভার্সিটিতে এগুলো ছাড়াও আবেদন করা যায়, এগুলোর ভালো নাম্বার দিয়ে আবেদন করলে চান্স পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়)
  • TOEFL/IELTS এই পরীক্ষা গুলো হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার পরিক্ষা এবং প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালেই এগুলো দিয়ে আবেদন করা বাধ্যতা মূলক। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় DET এক্সাম ও গ্রহণ করে।
  • ব্যক্তিগত প্রবন্ধ (Personal Essay) আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ
  • সহশিক্ষা কার্যক্রম (Extracurricular Activities) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেটা না থাকার কারণে অনেকে পিছিয়ে পড়ে ভর্তির দৌড়ে
  • চার বছরের একাডেমিক রেজাল্ট (নবম, দশম, একাদশ, ও দ্বাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার)

প্রশ্ন ২ঃ উপরের প্রত্যেকটা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কোথায় পাবো?

উত্তরঃ উপরের উল্ল্যেখ করা প্রত্যেকটা বিষয়েই খুব গভীর ভাবে অনুসন্ধান করতে হবে একজন শিক্ষার্থী কে এবং সুসংবাদ হলো এর জন্যে বাংলাদেশে অনেক গুলো কমুনিটি রয়েছে যারা এগুলো সম্পর্কে দক্ষ এবং অনুসন্ধানী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সাহায্য করে। এরকম কিছু কমুনিটি হলোঃ

  1. Bangladeshis Beyond Border (https://www.facebook.com/groups/BdBeyondBorder)
  2. Rubriked (Facebook: https://www.facebook.com/rubriked ; Website: https://rubriked.com/)
  3. Undergraduate Playlist by Bristy Sikder (https://youtu.be/5y6Ypbo9Djc)
  4. Undergraduate Playlists by Seeam Shahid Noor (https://www.youtube.com/c/SeeamShahidNoor/playlists)

প্রশ্ন ৩ঃ আমার কি কয়েক কোটি টাকা দেখাতে হবে ব্যাংক এ আমেরিকায় পড়ার জন্য?

উত্তরঃ প্রশ্নটা অনেক স্বাভাবিক ভাবেই আসে অনেকের মনে। উত্তরটা হচ্ছে, নির্ভর করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যায় তারা বৃত্তি এবং আর্থিক অনুদান নিয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ফ্রি তে পড়ার সুযোগ পায়। এরকম একজন এর উদাহরণ হচ্ছে আমি নিজেই। আমার এখানে পড়ার জন্য প্রায় তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে। থাকা-খাওয়া থেকে, টিউশন ফি পুরোটাই আমার ইউনিভার্সিটি বহন করে। আমার মত শত শত শিক্ষার্থী এভাবে বৃত্তি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যায় প্রতি বছর। তাদের ব্যাংক এ শুধু ঐ পরিমাণ টাকাই দেখাতে হয় যতটা বৃত্তি ও আর্থিক অনুদান পাওয়ার পর বাকি থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো খরচ থেকে।

তবে সেটা খুবই অহরহ না এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যারা আবেদন করে, তারা ব্যর্থ হয় এই প্রতীযোগীতায় বৃত্তি অর্জন করতে। তাই বলে নিরাশ হয়োনা বন্ধু, যদি নিজের উপর বিশ্বাস থাকে, সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করো।

প্রশ্ন ৪ঃ কখন থেকে আমার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত?


উত্তরঃ এখানে উত্তরটা একটু জটিল হয়ে যায় কিন্তু আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো সহজ করার জন্য।

আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করতে যেগুলো লাগে যেমন SAT, TOEFL/IELTS, Extracurricular Activities, ইত্যাদির প্রস্তুতি নির্ভর করে কে কতটুকু ভালো এসব বিষয়ে আগেই। কারো যদি অনেক Extracurricular Activities থাকে তাহলে তার কম প্রিপারেশনেই হয়ে যায়। কেউ যদি ইংরেজিতে দক্ষ থাকে, তাহলে কয়েক মাসের প্রস্তুতিতেই SAT এবং TOEFL/IELTS এ ভালো করতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো যাদের এসবে দক্ষতা নেই অথবা যারা এগুলো শুরুই করতে পারেনি (যেমন ক্লাস ৯-১০ এর শিক্ষার্থীরা) তারা কিভাবে প্রস্তুতি নিবে?

এদের জন্য আমাদের উপদেশ হলো, স্কুল জীবনের যে ক্লাসেই তারা এই লেখাটি পড়ছে, তখন থেকে

  • নিয়মিত ইংরেজি বই ও আর্টিকেল পড়ার অভ্যাস করা।
  • স্কুলে এবং স্কুলের বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমনঃ অলিম্পিয়াড, সাইন্স ফেয়ার, প্রোগ্রামিং, ডিবেটিং, ইত্যাদিতে অংশ নেওয়া। যেটা ভালো লাগে, সেটার অনেক বেশি করে অংশ নেওয়া এবং দেখানোর মতো পুরষ্কার অথবা দক্ষতা অথবা প্রজেক্ট অর্জন করা।
  • ইংরেজিতে লেখালেখির অভ্যাস করা।
  • স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা গুলোতে ভালো নম্বর অর্জন করা।
  • কিছু শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা যারা রিকমেন্ডেশন লেটার দিতে পারে যখন দরকার হবে।
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠলে SAT এবং TOEFL or IELTS এর প্রস্তুতি শুরু করা যার প্রয়োজনীয় রিসোর্স পাওয়া যাবে Rubriked এর ফেসবুক পেজে।
  • বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা যেটা পাওয়া যাবে উপরে উল্লেখ করা কমুনিটি গুলোতে

প্রশ্ন ৫ঃ এপ্লিকেশন কখন শুরু হয় এবং কখন শেষ হয়?


উত্তরঃ প্রত্যেক বছর আগস্ট মাসে আবেদন শুরু হয় বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরবর্তী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। কয়েক ভাবে আবেদন করা যায় এবং বিস্তারিত গুগলে পাওয়া যাবে। একজন শিক্ষার্থী যদি কোনো গ্যাপ ইয়ার ছাড়া আবেদন করতে চায় তাহলে তাকে যে বছর এইচ এস সি পরীক্ষার তারিখ থাকবে, তার আগের বছর আগস্টের দিকে আবেদন শুরু করতে হবে।

প্রশ্ন ৫ঃ আমার কি এজেন্সি থেকে সাহায্য নিতে হবে আবেদন করতে?


উত্তরঃ জরুরি না। উপরে যতগুলো রিসোর্স উল্ল্যেখ করা হয়েছে, কেউ যদি সেগুলো সঠিক ভাবে রিসার্চ করতে পারে তাহলে সে নিজে নিজেই সঠিক ভাবে আবেদন করতে পারবে। তবে কেউ যদি সাহায্য চায় পুরো প্রসেস এ কিছু কন্সাল্টেন্সি/এজেন্সির, তাহলে সেটাও এভাইলেবল। তবে নিজেকে চেষ্টা করে আবেদন করতেই উপদেশ দিবো যেটা আমি নিজেই করেছি।

প্রশ্ন ৬ঃ আমি শুনেছি স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে, আইয়েলটস করে অনেকে বিদেশে চলে যায়। উপরের এগুলোতো তাদের লাগে বলে শুনিনি। তাহলে?


উত্তরঃ এই ধরণের অর্ধেক-সত্য তথ্যের ছড়াছড়ি চারদিকে তাই অনেকে আমেরিকার পুরো প্রসেস টাকে “স্টুডেন্ট ভিসা” হিসেবে মনে করে এবং এতে অনেক কনফিউশন সৃষ্টি হয়। আমি এটাকে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করবো।

আমেরিকার এডমিশন প্রসেস আর “বিদেশ” এর এডমিশন প্রসেস এর অনেক পার্থক্য হতে পারে কারণ বিদেশ বলে বাংলাদেশ বাদে যেকোনো দেশ কেউ বোঝানো যায়। আমেরিকার এডমিশন প্রসেস এ “স্টুডেন্ট ভিসা” হলো সব থেকে শেষ পদক্ষেপ। সবার প্রথমে আগে শিক্ষার্থীকে উপরে উল্ল্যেখিত পদ্ধতিতে এডমিশন লেটার পেতে হবে। যদি সেটায় সে সফল হয়, তবেই সে স্টুডেন্ট ভিসা এর জন্য আবেদন করতে পারে। যদি তার সব কিছু ঠিকঠাক থাকে, এরপর তার ভিসা হয়। তাই কেউ আমেরিকার জন্য উচ্চশিক্ষায় গেলে, “স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে চলে গেছে” বলার থেকে, সঠিক হবে “বৃত্তি নিয়ে চলে গেছে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় এ চান্স পেয়েছে” বলা। শুধু IELTS করে আমেরিকায় তখন ই যেতে পারবে যখন তার উপরে উল্ল্যেখ করা বাকি সব অংশ ফুলফিল হবে।

প্রশ্ন ৭ঃ অন্য কোনো দেশে না গিয়ে আমেরিকায় ই কেন পড়তে যাবো?


উত্তরঃ উত্তরটা অনেক বড় করে দেওয়া যায় তবে সারসংক্ষেপে বলা যায়, আমেরিকায় যেভাবে এডুকেশন নিয়ে ভাবে, অন্য কোনো দেশ ততদূর পৌছাতে পারে নি। অপর্চুনিটির একটা গোল্ড মাইন হলো আমেরিকা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি টপ কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ পাওয়া সম্ভব। এছাড়া কোনো নির্দিষ্ট সাব্জেক্ট কে কেন্দ্র করে পড়তে বাধ্য করেনা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি–বেনিংটন কলেজ, এখানে আমি নিজের পড়ার বিষয় নিজে বানাতে পারি ইচ্ছামত কোর্স নিয়ে। আমি বর্তমানে পড়ছি, কম্পিউটার সাইন্স, মিউজিক, এবং ইকোনমিক্স নিয়ে। বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে এরকম?

প্রশ্ন ৮ঃ পড়াশোনার পাশাপাশি কি জব করতে পারবো?


উত্তরঃ পড়াশোনার পাশাপাশি জবের সুযোগ রয়েছে এখানে হবে সেটা সীমিত আকারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলা কালীন সময় সর্বোচ্চ সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করা যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সর্বোচ্চ সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা কাজ করা যায়। এছাড়া আমেরিকায় আসার পর প্রথম ৯ মাস ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করা যায় না। এইসব জব থেকে আয় সীমিত এবং বেশিরভাগ সময়ে এই জবের টাকা দিয়ে থাকা খাওয়া পুরোটা ম্যানেজ করা যায় না।

প্রশ্ন ৯ঃ কতদিন থাকতে পারবো। পড়াশোনার পড়ে কি সেটেল হতে পারবো?


উত্তরঃ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ভিসা ৪ বছরের হয় এবং এক বছর থাকে জব খোজার জন্যে সাথে। যারা সাইন্স, টেকনোলোজি, ম্যাথ, অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ে, তারা আরো ৩ বছর সুযোগ পায় জব ট্রেইনিং এর জন্য। এখানে সেটেল হওয়া বিষয়টা অন্যান্য দেশের থেকে কঠিন তর এবং সময় লাগে অনেক আর প্রসেস টাও প্রতীযোগীতা মূলক।


Written By: Talha Chowdhury (Computer Science & Music, Bennington College)

Getting Info...

إرسال تعليق

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.